কবিতা
কবিতাঃ পাপড়ি দাস সরকার
সংকেত
সব কথা শেষ হয়ে যায়
শূন্য আশ্রয় দুলে দুলে ওঠে
অন্তহীন মহান সময়ে হারিয়ে যায় অরন্যের দিন এবং রাত্রি
দুলে ওঠে পায়ের তলায় শিকড় এবং আতঙ্কের চাঁদ
নদীকে নামিয়ে আনি গভীর স্মৃতিতে
ডুবে যায় শ্মশানের ঘাট-কাপড়,
না পোড়া নাভিকুন্ড । ভেসে যায় অজানা বৃষ্টি ঢেউ
ভেসে যাই মহাঘুমের উৎসবে
এই বিভ্রম থাক, থাক এই কুয়াশার ধুলিঝড়,
অলিখিত শব্দছায়া এবং
লুকোনো ছবির বিন্যাস-
প্রহরী বদলে গেছে ।
এখন সব ব্যাঞ্জনা,
কুয়াশার অশ্রুত কথা
পাঠায় অশনিসংকেত
মাঙ্গলিক
আবার এই গৃহসজ্জা
এই মঙ্গলঘট
একটু যেন বাঁশিও বেজেছে
কতটুকু প্রান যেন এই চরাচর
মৌনতা ভেঙে সরব হওয়া
বাঁশপাতা কাঁপে
তার পায়ের ছাপ এখনো রয়েছে বেদনার
গার্হস্থযাপন
ভয় খুবলে খাচ্ছে পাড়া । চারিদিকে অসংখ্য
ফিশ্ ফিশানির স্বর; ক্যানভাসে রক্তের ছটা
গাছের নীচে মধ্যাহ্নছায়া ক্রমশ গাঢ়
হয়ে আসে
অক্ষরে অক্ষরে কেবল দুঃখমোচনের সোপান
বন্ধুত্বের দৃঢ় আশমানে আনমনে চেয়ে থাকে
ফিলোজফি ক্লাসের সূক্ষ প্রতর্ক । ভাবলেশহীন
একাকী ধীর পায়ে সমুদ্র যাপন
পড়ে থাকে নীতিকথা, গার্হস্থকাহিনী
আধো আধো ভরে ওঠে পরিব্রাজকের ডায়েরি
বিবাহ
পাপড়ি দাস সরকার
জন্মান্তরে দেখা হলেও আমি ঠিক চিনে নেবো
তোমার সবুজ পাতার আলোবাতাস
ঘটি থালার ভিতর রাখা ফুলের সাজ, আর
শরীর ভর্তি বিবাহ
তুমি শুধু ব্যাবহারের অনুমতি দিয়েছ
তবু আমি চেয়ে গেছি আর ও সমর্পণ
বুঝিনি, তোমার ভিতরে তুমি ছিলে উপাসনাগৃহ
সর্বক্ষণ !

0 মন্তব্য
প্রদর্শন
আড়াল