Published Date:10-10-2021
1633764985.jpg?v=1828448774

গল্প

দেশমাতৃকাপ্রেমপ্রকল্প

হিরণ্ময় গঙ্গোপাধ্যায়

এই যেমন ধরা যাক, তাকে সময় দেওয়া হয়েছে ঠিক দুটো, দুপুর; দুপুর মানে দুপুর‌ই, দুটো মানে দুটোই । মাহেন্দ্রক্ষণে মথুর ডোরবেল টং করলো তৎক্ষণাৎ ম্যাডামতুল্য একজন দরজা খুলে দিলেন, মুখে তৎক্ষণাৎ স্যটিসফ্যাকশনের চিহ্ন সমূহ : প্রোফাইল পিকের চেয়ে তুমি হ্যান্ডসাম ।

---কতটা তোমার দম জলে নামালেই বোঝা যাবে । ম্যডাম ততক্ষণে পিছনে, ম্যডামতুল্য অত‌এব গম্ভীর : দেখো, এসব কাজে ড্রিঙ্ক অ্যালাও করি না । 

---মরতে ভয় পাও ? 

---মাস্ক পরেও এসব কাজ হয়না । কন্ডোমেও না । 

---ধরো যদি তোমার করোনা, ধরো আমার করোনা, আমার লোকশান কিছু নেই, লোকশান তোমার । মরি যদি প্রকৃত  আনন্দ করতে করতেই মরবো । 

--- এ মরণ সরগ সমান ।

---তুমি ইংরাজি জানো ?

---ম্যাকবেথ পড়েছো ?

---It মানে ড্রিঙ্ক । 'It provokes and unprovokes ; it provokes the desire but it takes away the performance.'

 একে এসি রুম, তায় সেক্স পিওর, অমন ভাঙা উচ্চারণে মথুরের গায়ে অগণন কাঁটা । ১৪৯৭-এ ভাস্কো-ডা-গামা কি হতাশ হয়েছিলেন যে মথুর ২০২০-তে হবে ? ওই তো দ্যাখা যায়ধোঁয়া ধোঁয়া উপল, সজল এলোচুলে ভারতরেখা ও পথেই দু'শ বছর, দু-শ-অ-অ বছ-ও-র ; মথুর দু'ঘণ্টা, একটি, ন্নান্ না দুটি, নির্ভেজাল সঙ্গম দিতে পারবে না ?

বহু রতিব্যর্থ পরিহাসের বিছানায় ম্যডাম তখন ওয়ার্ড খোলা ম্যাট্রেসের মতো পুরাতনের গন্ধ নিয়ে নতুন, ম্যাডামতুল্য বহু ব্যবহৃত তাকিয়ার মতো এলোমেলো । দুজনেই আঙুল নাড়ে চোখে : 'Let us set sail for the voyage deep into the hemisphere' । প্রপঞ্চের মধ্যে অলৌকিক অপ্রপঞ্চ ।

  বাণিজ্যে যেহেতু বসতে লক্ষ্মী সারা পৃথিবীকে মুঠ্ঠিতে আনতে হলে সূক্ষ্ম ও স্থূলভাবে বুঝে নিতে হবে পৃথিবী কাহাকে বলে । যে যার মনোমতো সাইজে গড়ে নিতে পারে পৃথিবী এমন একটি চিজ ; কে জানতো, আসানসোল‌ই পৃথিবী থেকে বড়ো ! একা লাখো যুবকের যৌবনতক আহার-বিহার-কাম-লোভ-মাৎসর্যের আধার ; হোক বন্ধ গ্লাস ফ্যাকট্রি, স্যানরেলে ; ধসে মুছে যাক কয়লাখনি, ইস্কো নিভুক টিমটিম করে, দামোদর জলে জবাব দিয়ে দিক, তেলসোনাকয়লার শহর কিন্তু তেলসোনাকয়লার‌ই শহর । এমন পৃথিবীতে গভীরগভীরতর অসুখী হোমোসেফিয়েন্স অগণন । তাদের সুখে রাখার জন্য অগণন যুবকযুবতী প্রয়োজন রমণেবিপ্লবেমিছিলেদাঙায়ধর্ষণেখুনে ।

  আজ যে মেয়েটিকে মথুর সন্তুষ্ট করেছে সে স্ক্রিমিং সিক্সটিস, পড়ন্ত বলে খাঁক বেশি । লটকে থাকার জেদ বেশি । ঊর্ধরেতা । ডায়েট নিয়ন্ত্রিত পেটভারি-সিক্সটিস, প্রকৃতপ্রস্তাবে মথুরকে দুয়ে নিয়েছে---কত গহন গভীর কলুষময় গর্ত টেনে বের করেছে শেষ বিন্দু পর্যন্ত বীর্য---মথুর যাকে জানতো বেদনৌকা, আসলে তা নাকি কুড়াদানি ; যাবতীয় আবর্জনা ধারণ করার পরা-পশ্যন্তী-মধ্যমা-বৈখরীজননীর অপ্রাকৃত শক্তি, মথুর তাই জানলো । তার জানার দিকচক্র বালের কতটুকু ? তাকে প্লাস্টিক জানানো হয়েছে ধোঁয়া জানানো হয়েছে বৃক্ষরোপণের উপকারিতা জানানো হয়েছে মাঠেময়দানে মলত্যাগের কুফল জানানো হয়েছে জানানো হয় নি একদা-সুন্দর নীলসবুজের পৃথিবীকে একটি বৃহৎ ডাস্টবিন বানানোর সুসভ্য ইতিকথা ।  মথুর আজ‌ই জানলো 'post coitum  omne animal triste est', হরিষে বিষাদ ।

   মথুর চিৎকার করে ওঠে : বী-ঈ-ঈ-থি-ই-ই..., সবসে কিমতি ফটফটিয়ায় তোকে যদি চাপাতে না পারি আমাকে দকলা বলবি-ই-ই...

 বীথিও চিল্লায় : দেখছি তোর যন্তরের তেজ ! নামা কাওয়াসাকি-ই-ই...

  তাকে অ্যাপস জানিয়েছিল রোরিং ফোর্টিসে জাহাজ ভাসালে শুধু পালেই কাজ চলে, কালক্রমে তাহাতেই উপনিবেশ বিস্তার । ফিফটিস ফিউরিয়াস সিক্সটিস স্ক্রিমিং । তোমার অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যেতে হবে ১৯২০-তে, হাতে গাড়ি রেডিও আর টেলিফোন নিয়ে টুয়েন্টির আমেরিকা হেনরিক ব্রডেয়ারকে ছাপিয়ে ছাতু করে দিয়েছিল তারা, আর তোমার হাতে তো অ্যানড্রয়েড । গাড়ি ছাড়া সব কুচ । গাড়ি বলতেই ধক্ করে লাগলো সিনায় । চুতমারানি, বীথি টুস্ করে নেমে গেলো স্কুটি থেকে !

---আমার একটা পেস্টিজ আছে । ফটফটিয়া খরদো...হিরোউন্ডা, তাপ্পর আমাকে পঁদে বসাই ছুটবি !

  মাগির একবারও না তাকিয়ে পঁদপঁদ করে চলে যাওয়াটি মথুরের দু'নয়নে জলে-ঢিল ছবি ভেঙে যাওয়া বিস্তার । টুয়েন্টি বড়ো খতরনাক, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেও প্রাচীন । হেনোতেনো প্রশ্নের মিথ্যেসত্যি উত্তরে সন্তুষ্ট হলে প্রথমে হালকা করে পটে; সেটুকুর জন্য‌ও বহোত সময় ব্যয়‌অপব্যয় পরিশ্রম মনোযোগ তবে গিয়ে যেটি ঘটে তাহা প্রেম । তারপরও দমকা হাওয়া, তুমি প্রস্তুত পর্যন্ত না, হুসসা করে ডুবিয়ে দিলো তোমার সোনার তরী ।

  পিরিতি খুব খারাপ জিনিস ।

  বীথিকে, রোদে-হাওয়ায়-কয়লায় তখন তার চামড়া ফোড়া-কয়লা, রং শুকনো গুলের মতন, জল-না-পাওয়া লতাটি হেন চামটে, এ জিন্দেগিতে ফুলফল সম্ভাবনাশূন্য মথুরের হাতে তুলে দিয়ে লতা, বীথির গর্ভধারিনী, বলছিল, ল্যা, মানুষ মুয়্যাঁ কর । তুঁই-ই তালা তোড় । ...হর টিপনি বিশ রুপয়া দিবি ।

  বিশ রুপিয়াও লোকশান ! ফুট হিসাবে চার তিনে বারো টাকা তাহার কিমত ।

  বিশ রুপয়ার কতো দাম ! পাঁচ ঝোড়া কয়লার দাম দুটি দশ টাকার পাত্তি, তখন পেট্রোলের লিটার আসানসোলে ১৯ টাকা ৮৩ পয়সা, তাহার ফুটা স্কুটিও ৪২ কিমি কভার করে । গায়ের রং মাজাঘসা হতে হতে তামামূর্তি, খরখরে চুলে মরা উকুন ভাসলেও সে হাওয়ায় ওড়ে বিশ রুপয়ার তেজে--- সেই মেয়ে মথুরের স্থির দৃষ্টি ধরে দ্যাখে মথুরের নয়নজুড়ে নীল-সটস-মেয়ের না-বয়সোচিত স্ফীতস্তন । প্রথমে একটু টোকা, ধোঁয়া ছেড়ে জিভ ওঠাচ্ছে আগুন ।

---সুন্দরে পেট ভরে না, বুঝলি ?  

  ততক্ষণে ফড়ফড়ে আগুন কয়লা ফাটাচ্ছে; গাল খয়েরি, নাক বেগুনি : মানছি, মাগির দুদ দুহাতেও উপচে উঠবে, পাছা জোড়া ফুটবলের পারা, জাং-দুটাও পাম-মারা টিউবের মতন--- মাগি লেকিন বিশ রুপয়ায় লেগিস উতারবেক নাই ।

মথুর স্থির দৃষ্টি ঘুরিয়ে কেমন কেমন চায় । তাহার নরমা কোন চোখের চাওয়ায় সেদিনই বীথি জানালো তার কলসি কলসি পেট্রল খাওয়া বাবা-আমলের ইস্কুটিতে বসতে পেস্টিজে লাগে । অমন বিশ রুপয়া সব ব‌উই তার হেজব্যানের কাছে শোয়ার দরুন নেয় । প্রকৃত অর্ধাঙ্গিনীর মতোন পরামর্শ দ্যায় বীথি, উপরি কামা । আমিও ময়দানে উতারছি । একজনের রোজগারে আভি দিন গুজারে না ।

  এসব বাতচিত হয়েছিল ছাতাপাথর গ্লাস ফ্যাকট্রি তিরিশ বছর বন্ধ-দরুন সাবেক জিটি রোডের দুপাশাড়ি ঝোপজঙ্গল রাতারাতি সাফ করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রির আসানসোল আসা-হেতু সাত-তাড়াতাড়ি রেলিং ঘেরা ফুল না-ফুলের টববন্দি সার্বহার্ব মধ্যবর্তী সরোবরপ্রতীম কাকচক্ষু প্রস্তরবদ্ধ গর্তে একটি ফুটন্ত অপরটি না-ফোটা কলি তাহাতে কতিপয় ভাসমান পাতাসমেত পদ্মবন তৎসংলগ্ন যারপরনাই তৃণভূমি কিছুটা হরিৎ কিছুটা হরিদ্রাভ প্রস্তরমৃত্তিকা ল‌ইয়া নাতিউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ  স-ঝর্ণার কোলে কতিপয় চেয়ার ও পর্যাপ্ত দোলনায় পূর্বশা হাউসিং-এর আবালনাবালদের সান্ধ্যকালীন বিনোদনস্থল পার্ক, বীথিরা বলে 'পারক '। এমত কুঞ্জে মথুরের গায়ে প্রকৃত প্রেমিকার মতো ঢলেঢলে দুলেদুলে মধু-বায় সন্ধ্যা এবং বীথি এবং তাহার সুগভীর প্রেম ও পরামর্শ । দিবানিশি কেউ রবীন্দ্রসঙ্গীতে চেঁচায় বলে মথুর ঠিকঠাক শুনতে পায় নি সে প্রেম ।

  মথুরা বলে, ফির বল ।

  আসানসোল শতাব্দী পার্ক জানে, গুঞ্জন পার্ক জানে, লুমিয়ের পার্ক জানে । বীথি অচেনা চোখে অনুপ্রেরণার ঘেরাটিকে দেখে পুচ্ করে থুথু ফ্যালে : মুত বন্ধের ধাঁন্দলি ! পারক না বাল ! আবার টুসকি- গানা দিনরাত !

  ঠিক তো ! ধাঁ করে মনে পড়ে গেল মথুরের, সে কি একাই ? মোটরবাইক সাইকেল পয়দলি স্ত্রীপুংহিজড়া জেনারেল এসসিএসটিওবিসি সব শালাই দুহপ্তা আগেও মুতে ভাসিয়ে দিয়েছে সে মুতরেখা জিটি রোড় ধুয়েমুছে দিয়েছে দিবসরজনী এখন যেখানে 'পারক ' ।

  যে-কোনো ঘটনাই এখন বিশ্বঘটনা । সূর্য ডুবলো আর চোদ্দ চাকার কয়লাভর্তি ট্রাক দলমা পাহাড়-ভাঙা হাতির দল যেমন, সাবেক জিটি রোড বেয়ে শান্তশিষ্ট চালে আটলেনের জিটি রোড ধরে চলে যায় জার্মানি থেকে তার গুণিতক হারে গুড়ো কয়লা আসানসোলে ঢোকানোর জন্য; ওয়াগেনে ওয়াগেনে । পারক নামক ছোট্ট রেলিং ঘেরা সাফসুতরো ভূগোলটিও গ্লোবালাইসড্ জিওগ্রাফি : সন্ধ্যা আলোয় ফুটে বেরোয় : 'গ্রিন আসানসোল ক্লিন আসানসোল' । অত‌এব মথুর, যদি বীথির সঙ্গে , ধরা যাক, গাঁটছড়া বাঁধে, ইওরোপীয় রীতিতেই তা কেবলমাত্র ডিভোর্সের জন্য‌ই, হবে ।

  এখন যেমন একটি ফোর্টি প্লাস; আপাতত মথুরের দিকে পঁদ ঘুরে, অতিকায় টেডিবিয়ারের মতন ফোলা-পাছা, অগণন ভ্রুণ হত্যার পর একটি মাত্র জীবিত ইস্যুকে নিয়ে দোদুলদোলে দোলনায় । মুখমণ্ডল মথুরের বাণিজ্যে গৌণ কিন্তু এগ্রিমেন্টের জন্য দুটি চোখ-বসানো মুখটার প্রয়োজন প্রাথমিক ভাবে । তত্ত্ব অনুযায়ী মথুরের কাজ এখন গদগদ করে মুতে যাওয়া, শব্দ তোলা, মুতকে অনেক দূরে ছুঁড়ে দেওয়া । মোতাকালীন ফোর্টিস অবশ্যই একবার পূর্ণনয়নে  মুত ও মোতার সূত্রে লিঙ্গটি দেখতে চাইবে, দেখবেই এবং তৎক্ষণাৎ মুখ ঘুরিয়ে দৃষ্টি স্থাপন করবে ইস্যুটির ওপর; পরক্ষণেই চোরা চোখ মূত্রত্যাগ দেখে যাবে, মুত শেষ হতেই  কিম্বা মূত্রত্যাগের মধ্যেই অবোধ ইস্যুটিকে টেনে নিয়ে চলে যাবে ভাঙাবুকে । সম্ভাবনার প্রাথমিক স্তর এটিই । এ ভাবেই রাষ্ট্রভক্তি ও রাষ্ট্রঘৃণার জন্ম হবে । এতসব সঙ্কট সত্ত্বেও, যদি, ফোর্টিস না যায়, যদি, যেমন সে কিছুই দ্যাখেনি, দ্যাখার আছেটাই বা কি আর দেখলেই বা কি হয়েছে... এমন তেমন যুক্তি খাড়া করে ভোট না-দেওয়া সুনাগরিক হয়ে যায়, কিম্বা মরীয়া প্রতিবাদী হয়ে যায়, তার দাওয়াই তখন আলাদা ।

  সূত্রানুসারে, মুত শেষে এমন একটি আসন নিতে হবে দণ্ডায়মান ফোর্টিসের দৃষ্টি হবে ঠিক অতিভূজের শীর্ষটি । পতিত বিন্দুতে  তার দৃষ্টির ফোকাল পয়েন্ট হবে উত্থিত লিঙ্গের খোঁচায় ঢিলেঢালা প্যান্টের তাঁবু হয়ে যাওয়া চূড়াটি । পুংলিঙ্গ সংক্রান্ত তার যাবতীয় লব্ধ অভিজ্ঞতাকে ছাতু করে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে; তুমি সব ফাটিয়ে দাও, সব বেচে দাও । তারপর সে বিদ্রোহী ।  সে বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ওঠাবে, গেরিলা পদ্ধতি নেবে ভেঙে ছয়লাপ করে দেবে সযত্নখচিত এতোদিনের সুখীজীবন । তোমাকে সাহায্য করার জন্য আছে বৈপ্লবিক তত্ত্ব : 'লিঙ্গ যতো বিশালকায় হবে মজার মাত্রা হবে ততোধিক । ' সচিত্র সচল লিঙ্গবর্ধক জাপানি তেল ও দাওয়াই ইউটিউবে দেখেও সে তার যথাবিহিত বরাদ্দ লিঙ্গেই রতিতৃপ্ত, তার মাথায় গেঁথে আছে এসব বুর্জোয়া কৌশল, অ্যাবসার্ড, অবিশ্বাস্য, তুমি বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদটির মতো লেট-বিকেলের সূর্য তার আশেপাশে মোলায়েম নির্জন বাতাসকে  গরম করে জানিয়ে দিচ্ছ পৃথিবীতে অবিশ্বাস্য বলে কিছু নেই অ্যাবসার্ড বলেও কিছু নেই মাত্র ক'বছরে আম্বানি  হিন্দুস্তানে ধনী নম্বর ওয়ান । বিড়ালটি কালো না সাদা জানা অপ্রয়োজন --- ইঁদুর ধরতে পারলেই হলো । তৃপ্ত ফোর্টিস‌ও জানে মার্কসবাদ ভালো । পুজিবাদ‌ও জানে, ভয়ানক ভালো । এতো ভালো বলেই মানুষ সভয়ে সরিয়ে দিয়েছে গ্রহণ করেও--- যেমন যেমনটি আগুনের পারা গনগনে মালমাগির দিকে চেয়ে চেয়ে নিরর্থক  সময় অপচয় সব বাঁড়াই বোঝে । এরচেয়ে পর্ণো ভালো, ছোট ছোট মুভমেন্ট ভালো ---অমন দীর্ঘসূত্রী বিপ্লব অ্যাবসার্ড এ যুগে । হরমোনের প্রভূত্ব  যত শিথিল হবে মানসিক নিয়ন্ত্রণ তত দৃঢ় হবে কামনাটিও হবে ক্লাসিক আত্মত্যাগী ঠিক যেমনটি বলিভিয়ায় চে'র বুক চিতিয়ে লুটিয়ে পড়া । মানুষের সেক্স অথবা কিম্বা বেঁচেবর্তে থাকা বায়োলজি না, বায়োলজি আর কালচারের গেট টুগেদার ।

  কিন্তু বৃহৎ বৃহৎই । সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য স্ট্যাচুর জন্য‌ই ট্রাম্প সহ বিশ্ব জেনে গেলো গুজরাট বলে একটা দেশ আছে । একা গান্ধি না, মোদী বলেও এক সুসন্তানের  জন্মদাত্রী সে দেশ; প্যাটেল গান্ধির চেয়েও বৃহৎ ও মহান নেতা, এতদিন ছোট ছোট গান্ধিমূর্তির পাশে  লিলিপুট হয়ে থেকে যেতে হয়েছিল যেমন লেনিন কিস্যু না ক্রমাগত মূর্তি ভূমিস্মাৎ হতে হতে । তোমার উত্থিত লিঙ্গ ফোর্টিসকে জানিয়ে দিল বড্ডো মধ্যবিত্ত যৌনতায়  ঊনসত্তর বছর  মাটি হয়ে গেছে তার । তার নাগালের বাইরের বৃহৎ আভি তোমার আয়ত্তে,পাউচে পাউচে ।

  তখন বড়ো বড়ো বাড়ির মাথায়  গোল সূর্য বড়ো শান্তভাবে টুক্ করে খসে গেল । এক ল্যাম্পপোস্টের  থেকে আরেক ল্যাম্পপোস্টের মাঝে জমিয়ে বসেছে ছায়া, মাড়িয়েগুড়িয়ে দুজনে হাঁটছে । হাঁটা মানে গল্প গল্প মানে অনন্তের জ্ঞানপাপ মোছামোছি । বাদানুবাদ-মারপিট-গুঠবাজি এবং দ্বন্দ্বমূলক সহাবস্থান । বীথি জানালো, মালটা ছিল সত্তর প্লাস---হারামির অ্যায়সা মাল আউট করালাম, চুতমারানি নিজেই সরমে গেল !

---ফাঁকি দিয়ে বিজনেস হয় না ।

---তুঁই বাল জানিস ! গরাহক চিটিং পসন্দ করে ।

  খুক খুক করে হাসে মথুর : চোদন বড়ো ঝকমারি কাজ... ট্রাম্প শালা বুঝছে ইরানকে চুদতে গিয়ে !

---উ হারামিও এহি বিজনেসে ? তেরা দোস্ত ?

---ধরে লে । মোদিও । এন‌আরসি শুনেছিস, শাহবাগ ? করোনা ?

  সমস্যাদীর্ণ পৃথিবীকে সহনশীল করার একমাত্র নিরাময় হলো সবকিছুকে সঙ্গীতে রূপান্তরিত করা । ট্রামবাসট্রেন না পুড়িয়ে  সঙ্গীতে প্রতিবাদ ভালো । জনগণ চায়না রাস্তা অবরোধ হোক, বন্ধে কর্মদিবস বিনষ্ট হোক,  রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্ট হোক, দেশকে ভালবাসতে চায় সকলে, দেশভক্তির মন্ত্র সঙ্গীত, তার রচয়িতা মহামনীষী কবিগণ যথা কবিগুরু । পৃথিবী সঙ্গীতেই আবর্তিত ফলত তাহার পৃষ্ঠে যাবতীয় বস্তু , জীব ও নির্জীব সকল‌ই সঙ্গীতময় । তানসেন আগুন জ্বালাতেও পারতেন সঙ্গীত ঘসে সঙ্গীতের ঘোঁচায় বৃষ্টিও ঝরাতেন নির্মঘ আশমান থেকে । তিনিও ভারতসন্তান । অত‌এব মথুর‌ও সঙ্গীতপ্রিয়, শিষ দিয়ে ওঠে নিজস্ব সঙ্গীতে । আচমকা ব্রেক-কঁকা মালগাড়ির খুঁড়িয়ে ছোটা তিড়িংবিড়িং লেবার স্পেশাল এক্সপ্রেস মন্থর চালে গুরুভার চোরা কয়লার ভারি ট্রাক চুনা ফ্যাক্ট্রির লজঝড় রোলিং মেশিনের ঘটঘটাং যে-কটি শেয়াল টিকে গেছে তাদের হুক্কাস্বর নির্বোধ ভাঙাচাঁদ অন্ধকার ঝেড়ে উঠে আসতে চাওয়া অতিসংক্ষিপ্ত ঝোপঝাড়গাছগাছালির মাথায় বেহিশেবি তারাফারা নিয়ে প্রকৃতি । আচমকা বীথিকে জড়িয়ে ধরে মথুর । ঝটকা মেরে বীথি মথুরকে শাসায় : মাদারচোদ্ ! দুব রেপ কেসে ফাঁসাই ?

---পুলিশ তোকেই ধরবে । তারপর গ্যাং রেপ...

---সচ্ ?

---রিপোট পর্যন্ত লিখবেক নাই... রেপ কেস কমানোই লক্ষ্য...

  বীথিই এবার আঁকড়ে ধরে মথুরকে। মথুর ওকে ধাক্কা মারে : ছাড়ত !

---ও হারামি !

  বীথির কত জ্ঞান ও পাপ । পরিপূর্ণ মাথাটি এবার মথুরের কাঁধে রাখে । রাষ্ট্র সম্মতিসূচক যৌনতাকে সভ্যতা বলে, বলেই, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণও করে : প্রভাতে মৈথুনং নিদ্রা সদ্য প্রাণহরাণি ষট্ । রাত্রির নির্জনতা ও গভীর তমিস্রা দিবাচর মানুষের চৌর্য ও রমণের জন্য নির্ধারিত । তোমাকে বীর্যবান হতে হবে । সারা দিবস ।

  এমত ঘনিষ্ঠ সময়ে ফুঁড়ে বেরোয় লতা : হ্যাঁ রে মোথরা, তুঁই ক্যামন দকলারে ! নয়নবাবুকে  দিলি ভাগাই ! মায়ের দুখখু বুঝবিনাই ?

  অজানিতে কত ভুলজনিত দুঃখ হয় । মথুর হাপুস নয়নে কাঁদে, বীথি তত আঁকড়ে ধরে । দুঃখে সর্বস্ব নিয়ে কাছে দাঁড়াতে হয় । লতাও নরম । আঁচল তোলে । 

---তোর এত মাত্তিভক্তি ! অত নরমা মন ! জানলে , বলি ?

  মথুরের নয়নভরা জল মোছায় লতা : মৎ রো ! মৎ রো !! 

সেই ঘটমান দুপুর এখনো তমিস্রা ভেদ করে জাগ্রত বলে মথুর বীথির  বুক ভেজায়  মিথুনভঙ্গে যতটা বেদনার্ত হয়েছিলেন আদিকবি, ততোধিক ।

  যে সময়টিকে টিফিন আওয়ার্স বলে,  মথুর-না-থাকা নিঝুম নিদাঘে কাকপক্ষীও যখন বৃক্ষছায়ে ঝুমতে থাকে আহা মথুরের বেচারি মা এজেন্ট অফিসের হেডক্লার্ক নয়নবাবুর মুখোমুখি বসে, দরজা খোলা বলে মিটিংটি নির্দোষ । রদবদল গতির মথুরকে দেখে পড়োশিনী ননীচোরার মা থামায়, দৌড়িস না দৌড়িস না । যা, দেখগা, তোদের ঘরে কুলপূজা হচ্ছে ।

  কুলপূজার অর্থ অজানা বলেই যত বিপত্তি । ঘরে ঢুকে হাস্যরত নয়নবাবুকে দেখে মথুর অযথা টং : অ, নয়নকাকু ? সব কুশলমঙ্গল তো ?

  ঘাড় নাড়েন নয়নকাকু ।

---খুব ভালো করেছেন । মা একলা থাকে...বাতচিতের লোকজন ক‌ই...

  নয়নকাকু হাসেন ।

---আপনি ত রোজ‌ই আসেন । আসবেন... মা কথা বলার লোক ত একটা পাচ্ছে... আসবেন...

  নয়নকাকু শব্দে পৌঁছান : ন্না,মানে...

---আপনি, ত, এক কাজ করুন, মাকে বিয়ে করুন না...খারাপ কি ?

---দ্যুট্! অতিশয় লাল হন নয়নকাকু ।

---কেন, অসুবিধাটা কি ? আপনার ত মাকে পছন্দ । আমার ফুল সাপোট ।

---আমার ব‌উ আছে । বাচ্চা আছে ।

---ডিভোস দিয়ে দ্যান । ভাগান গাইবাছুর ।

  এতক্ষণে সত্যি সত্যি হাসেন নয়নকাকু : তুমি খুব রসিক ছেলে ।

---রস ত আপনার‌ও কম নাই দাদা !

বিমূঢ় বিস্ময়, যাকে বলে অব্যাবু, মায়ের দিকে তাকিয়ে নয়নবাবু বলেন, দুপুরে একটু চা খেতে আসি । বউদির চা ফাসকেলাস ।

---মা কি চায়ের দোকান খুলেছে ?

---ছি ছি । ভদ্দলোকের ইস্ত্রী...

---যদি ব‌উ বানাতে পারেন, আসবেন, রেন্ডি বানাতে আসবেন না ভদ্দলোকের ইস্ত্রীকে ।

  সন্ধ্যায় মা বলে,  ঠিক করেছিস । আমার‌ও পছন্দ না নয়নবাবুর আসাটা । মুখের উপর না বলা যায় না...একটু চা-ই খেতো ত ?

নয়নবাবুর বরাদ্দ চা মথুরা খায় ।

মা বলে, একটা ওই ছুঁলেই-চলে মোবাইল কিনে দে ।

---তুমি অ্যানড্রয়েডে কি করবে ?

---সবাই যা করে । সিনেমা দেখব, গান শুনব, বিডিও দেখব, কি বলে ফেসবুক করব । হটাস আপ না কী, করব...

---তুমি ও সব পারবেনা ।

---কিনে দিবিনা, তাই বল । অত ফেরিমাদারির দরকার নাই ! মোবাইল নিয়ে তুঁই একাই সুক কর !

  এ রকম ক্লাইম্যাকসে ঠোঁটে কাপড় ও চোখে ধারাস্রোত বহার কথা, মা কিন্তু জ্বলে উঠলো : তাহালে নয়নবাবুকে ভাগালি কেনে ?

কেস তবে এই । লতা সান্ত্বনা দেয় : দুখাস না । দুনিয়ায় লুজ কারেকটারের কমি নাই ।

  মথুর জানে না, নয়নবাবু আর চা খেতে আসেন কি না । মথুরের অবসর‌ও নাই মায়ের চরিত্রগঠনে ।

পৃথিবীতে এত জনসংখ্যার ভার ! একটা প্রজন্ম যদি দেবরীতি অনুসরণ করে ক্ষতি কীঈ ? নিয়মিত বৈধ-অবৈধ সংগমের মধ্যে থেকেও দেবতার সংখ্যা কিন্তু তেত্রিশ কোটি । তেত্রিশ কোটি মোরা নহি কভু হীন---হয়তো একটা আদর্শ রাষ্ট্রের প্রকৃত জনসংখ্যা । ওই তেত্রিশ কোটিই ।

  মথুরের বয়স তখন এগারো, মনে থাকার‌ই কথা ।  আছেও ।

  'লোকটা মুখে রক্ত তুলে কামাবে আর সময়ে দুটি ভাত পাচ্ছে না' ---সমস্ত আপত্তিকে ওই অস্ত্রে ছাতু করে মা শ্বশুরবাড়ির মুখে কার্যত মুতে দিয়ে কোয়াটারে চলে আসে । বিদায় বেলায় শ্বশুরকে সে ষ্টৎৎযৎযৎ আর প্রণাম করতে গেলে শ্বশুর পা-টা সরিয়ে নিলো । বেটার দিকে তাকিয়ে বলে, ভাত না ঘন্টা ! ডেলি ধন না ভিজালে গুদিরবেটার ঘুম হচ্ছে নাই !

  মথুরের বাপ রাস্তায়, দুহাতে যৎসামান্য পিতৃপিতামহপ্রদত্ত লটবহর, মথুর মায়ের আঙুল ধরে যৌথপরিবার ডিঙোচ্ছে, ঠাকুমা ঠায়ঠিয়ক্কা চৌকাঠে । নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে মথুরের বাপ মথুরের মাকে শোনায়, বকাচদা খুব পির ! কোন শালার ডেলি ধন ভিজানো চাই সবাই জানে !  মাদারচোদ্,  মরাধরা মিলে বাইশটা এড়িগেঁড়ির বাপ ! 

 ---ছিঃ ! বাপকে অমন বলে! ?

---বাপ না ক্যালা ! ধন ভিজাব বেশ করব !

  আর ধন ভিজানো ! মথুরের বাপ  যে একটি পাঁড় মাতাল সেটাও জানলো, মথুর‌ও, কোয়াটারে এসে । সন্ধ্যায়, ডিউটি ফেরত, গোটা শরীরটাই মদের বোতল, ব‌উয়ের থুতনি নাড়া দিতে গিয়ে মেঝেয় চিৎপটাং । হারামির বাচ্চা মেঝেয় রাত বিতায় । এত বড়ো গাদ্দামোড়া পালঙ্কে গাঙুড়ে কলার মান্দাস মথুর এপাশ-ওপাশ দুলছে, মুতের তোড়ে নুঙ্কু টিরটিরে, প্রায় কোলে নিয়ে উঠোনে মোতায়, তারপরও টুড়ুকটুড়ুক নুঙ্কু দোলে । মা নুঙ্কুটা নাড়াচাড়া করে ষাঁড়ের তেজে নাকডাকা মাতালটাকে দ্যাখে ।

---তোর মাগের সাথে এমনটা করিস না নুনু । ব‌উয়ের দুঃখু বুঝবি । মা নুঙ্কুটাকে ওঠায় নামায় । মথুরকে আঁকড়ে ধরে বুকে । আঃ ! মথুর যদি ভাতার হোত !

  মায়ের দুঃখে কত না প্রলেপ দেব ভাবতে ভাবতে মথুর ঘরে ঢুকেই থ । বীথিকে ম্যাসেজ পাঠায়: শিবমন্দরে আয় ।

---বাত কি ?

  বাত লিখতে লিখতে মথুর শোনে, মাগি রাখতে গেলে যন্তরের জোশ চাই ।

  মা ক্যাৎ করে লাথ মেরে  নয়নবাবুকে বিছানা থেকে ফেলে দিল । লজ্জিত নয়নবাবু বলেন, মথুর দেখছে, বারান্দায়...

---দেখুক !

---চলে যাচ্ছে...ঘাড় ঘোরান নয়নবাবু ।

---ত, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের দুখখু দেখবে? !

  বীথি উত্তরে লিখল, হারামি খুব পাপিষ্ঠ । তুঁইও লাত মার দকলাচদাকে ।

  সিক্স প্যাক গ্রিক ভাস্কর্যের দুখানা উরুর মাঝে ইঁদুরছানা সাইজের লিঙ্গের মুখে শুক্রভরা ঝুলন্ত কন্ডোম, নয়নবাবু লাজুক লাজুক দাঁড়িয়ে । ভারতীয় ভাস্কর্যের ভারিপাছা স্তনসর্বস্ব মা অতৃপ্তির যাবতীয় হিজিবিজি মুখে চিৎকার করে : ভোসড়িবালার আধ মিনিটের দম নাই, নাং হবার হুরহুরি !

  কন্ডোমটি কোথায় ফেলবে ভাবতে ভাবতে নয়নবাবু হাতেই ঝোলান । দৈনন্দিন ক্রিয়া, যথা বাহ্যে-পেচ্ছাপের চেয়ে কিছু না সঙ্গম, যা সকলেই করে, তাও, তবুও তার জন্য একটু আড়াল লাগে, পায়খানায় যেমন কপাট; তবু সঙ্গমকে আহারনিদ্রার মতো জলভাত ও প্যাশ্চোরাল করার জন্য সাভ্যতিক প্রয়াস কন্ডোম, যতোটা জন্মনিয়ন্ত্রণ, ততোধিক বাণিজ্য, বাণিজ্য মানেই তো প্রচার, পাড়ার দোকানেও প্রকাশ্যে রাখা থাকে, টিভিতে অ্যাড দেয় । অতৃপ্তি ক্রোধ বিক্ষোভ সান্ত্বনা সহমর্মিতা ভালোবাসা তেমনি লজ্জা অর্থাৎ শরম চোখে পড়ার মতো চিহ্ন নয় আজ । আসলে যার হারাবার মতো কিছু নেই, কিচ্ছুটি নেই, যে-কোনো হালতে তখন তার পাওয়ার পালা---পাওয়ারফুলরা সোজাসাপ্টা কথাটা বোঝেনা বলেই অত দ্বন্দ্ব । অবশ্য গরিবি হঠাও আচ্ছে দিন জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সকলেই সমবেত প্রচেষ্টায় সবহারাকে কিছু না কিছু দিয়ে বিপ্লববিমুখ করে গেছে । তার হারাবার অনেক কিছু আছে । নয়নবাবু শুক্রভরা কনডোমটি পকেটে নিয়ে বিপ্লবীর মতো বিদায় নিলেন । দূরে ছায়া ছায়া নয়নবাবুর ঝান্ডা দেখে  মথুর যখন ফিরে এলো চাঁদ প্রায় ঢুলুঢুলু । বিজলি নাই । লিঙ্গমণির মতো জলট্যাঙ্কি মেঘফুঁড়ে, তারজাল বিজবিজে যৌনকেশের মতো আশমানে ; তার ফাঁকে চূর্ণ ঘাম, তাতে আলোর চমকহেন তারাদল, তার নিচে, প্রায়ান্ধকারে মাদুর পেতে মা, শুয়ে । গেম হবে সিনেমা হবে সিরিয়াল হবে ডেটিং সাইট হবে পর্ণো হবে কে-জানে কিছুতে মোবাইল মাকে নীল করে রেখেছে । নিবাতনিষ্কম্প চোখ ।

  অনেকক্ষণ চেপে রাখা মুত মথুর খালাস করে দেয়ালঘেঁষা নালায়, ছন্ ছন্ সে আওয়াজ সঙ্গীতের নীরবতা যেন, মুগ্ধ মা মথুরকে ডাঁটে : মুতছিস না সুর তুলছিস ?

---এতক্ষণ ধরে মুত ধরে রাখিস কেনে ? কিডনিটা যাবেক তোর !

---বেশি করে জল দে । মরদলোকের মুতে খুব গন্ধ !

  মোবাইল বন্ধ করে নীল আলোর ভূগোলে মা উঠে দাঁড়ালো, চল খাবি ।

---এত রাত তক্ক থাকিস কুথায় ?

---অন্ধকারে মা-টা যে ছটপটাচ্ছে, খেয়াল থাকে ?

---কুথায় যাস আমি জানি ।

---লতা তোর বাপের রাখনি ছিল । 

---সেও ত একরকম মা-ই, ত...

---বীথি তোর বাপের জম্মা, মানে তোর বোন‌ই ।

---লতার কাছে তুঁই-ও যাস...

---তুঁই কি করে নোট কামাস আমি জানি ।

---লতাই বলেছে ।

---টাকা কী আমিই দিতে পারিনা ?

---কিন্তু তোর‌ই ত লোকশান ।

---মায়ের দুঃখকষ্ট বুঝ ইবেরে...

  খেতে বসে মথুর । হ্যারিকেনের মাংসবৎ লাল আলো । ডিম-ঝোল রুটি । মা আলুচচ্চড়ি রুটি, নিরামিষ । মথুর বলে, ডিম খাও ।

---কি যা তা বকছিস ?

---মাংস খাও ।

---বিধবারা আঁশ খায় ?

---অদীক্ষিত শূদ্র আর অনুপবিত  ব্রাহ্মণ কী খাবে শাস্ত্রে লেখে নাই । 

---তুমি সব খেতে পার ।

---ক্ষুধার্তের সব ভোক্ষ্য ।

অশাস্ত্রীয় নিষিদ্ধ খাদ্যাখাদ্য সব...

---পুত্র‌ও ভোক্ষ্য

Comments:

0 মন্তব্য
প্রদর্শন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন