Published Date:10-10-2021
1632922925.jpg?v=1023813091

গল্প

ভুবনডাঙার গল্প

স্বপন বিশ্বাস

নদীর ঘাটে কী এক বস্তু ভেসে এসেছে । শেষ রাতের অন্ধকার ছিঁড়েফুঁড়ে সে খবর ভুবন ডাঙার মানুষের মাঝে চাউর হয়ে গেল । সবাই হই হই রই রই করে ছুটল নদীর ঘাটে । মেয়েরা ঘুম জড়ানো চোখে গায়ের কাপড় টানতে টানতে দৌড়াল । কোনো কোনো পুরুষ রাতের খুলে ফেলা পোশাক নিতে ভুলে গেল । তাই নিয়ে ভুবনডাঙায় নতুন নতুন গল্পের জন্ম হলো । তবে সব গল্পকে হার মানিয়ে দিল হাবুলের বউ । সে সারা রাত প্রসব বেদনায় ছটফট করছিল । দাইমা তেল পড়া, গরম জল আর বাচ্চার নাড়ি কাটার বাঁশের চটা নিয়ে অপেক্ষা করছিল । নদীর ঘাটের খবর শুনে সে প্রসব বেদনা ভুলে গেল । দাইমার হাত ধরে হাজির হলো নদীর ঘাটে । সেখানেই হাবুলের বউয়ের বাচ্চা হলো ।

আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন ছুটে আসল । যারা হাটে বাজারে বা মেলার মাঠে দোকান বসায় তারা ছুটে এল দোকান নিয়ে । নদীর ঘাটে মেলা বসে গেল । এলাকার গণ্যমান্য নেতৃস্থানীয়  লোকজন এসে হাজির । মেলার মাঠে বক্তৃতা দেওয়ার  জন্য ব্যাটারিচালিত মাইক লাগানো হলো । ভুবনডাঙায় এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি । শুধু বিদ্যুতের আলোই নয়-পৃথিবীর উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়াই লাগেনি এই জনপদে । ভুবনডাঙার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে প্রবল স্রোতস্বিনী এক নদী, যাকে মহাসাগর বললেও হয়তো কম বলা হবে । নদীর এপারের মানুষ কখনো অন্য পারের চেহারা দেখেনি । যারা গেছে তারা আর কোনো দিন ফিরে আসেনি । যদিও ফিরে আসার জন্য কেউ এই নদী পাড়ি দেয় না । যারা এই খরস্রোতা নদীর হাঙর, কুমির ঝড়-ঝঞ্ঝা পার হয়ে অন্য পাড়ে পৌঁছায় তারা নাকি অমর হয়ে যায় । ওপারের যে দেশ সেখানে কোনো রোগ নেই, শোক নেই । গাছে গাছে নানা রকম সুস্বাদু ফল । সোনার পাহাড় থেকে যে ঝরনাধারা নেমে আসে তাতে সুমিষ্ট দুধের নহর বয়ে যায় । সোনায় মোড়া গাছে গাছে পাখিরা বসে গান গায়, মানুষের মতো কথা বলে । মানুষেরাও পাখির মতো উড়তে পারে । উড়তে উড়তে পরিদের সঙ্গে প্রেমালাপে মত্ত হয় । মেঘের মাঝে লুকোচুরি খেলে । এপারের মেয়েরা ওপারে গিয়ে পরির মতো সুন্দরী হয়ে যায় । তারপর পাখা মেলে প্রজাপতিদের সঙ্গে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় । সেখানে সব সময় বসন্তকাল আর প্রতি রাতই আলো ঝলমলে পূর্ণিমার রাত ।

এই সব ঘটনা এপারের মানুষেরা কীভাবে জেনেছে তা কেউ বলতে পারে না । সবাই তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে ওপারের গল্প শুনেছে । তারা আবার শুনেছেন তাঁদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে । একদিন নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে গিয়ে সবাই অমর হবে—এমন বিশ্বাস নিয়েই এই জনপদের মানুষদের জীবনযাপন । তাদের মূল কাজ সারা জীবন ধরে একটা নৌকা তৈরি করা । তারপর সেই নৌকায় কয়েক বছর চলার মতো খাদ্যসামগ্রী আর বিপদ মোকাবিলা করার সরঞ্জামাদি বোঝাই করে একদিন নদীতে নেমে পড়া । কেউ কাউকে সঙ্গে নেয় না, সেটাই নিয়ম । হতে পারে যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে পথে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে । তাই যার যার জমানো রসদ নিয়ে একা রওনা হয় ।
পথের খাবার আর বিপদ আপদের কথা চিন্তা করে নৌকাটাকে মজবুত আর বড় করে বানাতে হয় । তবে তার জন্য কেউ কোনো নির্দিষ্ট মাপ মেনে চলে না । যার যেমন খুশি বানায় । এখানকার মানুষেরা দিনে মাছ ধরে, খেতে ফসল ফলায় আর রাতে মশাল জ্বেলে নৌকা তৈরি করে । অনেকের মতে, ক্রিস্টোফার কলম্বাস নাকি তাঁর ভারত অভিযানে এই অঞ্চলটি দেখেছিলেন । তাঁর ভ্রমণ কাহিনিতে নানা রকম অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বর্ণনা আছে । এমন এক অভিজ্ঞতার বর্ণনায় কলম্বাস লিখেছেন, তাঁর জাহাজের নাবিকেরা একটি অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি এবং আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন । এ ছাড়া তিনি কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশের কথাও বর্ণনা করেছেন । তারপর তিনি গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন আরেক দেশে গিয়ে হাজির হলেন । পরে যার নাম দেওয়া হয়েছে আমেরিকা । ঘটনা সত্য হলেও হতে পারে । হয়তো কলম্বাসের জাহাজের নাবিকেরা নৌকা তৈরির মশালের আলোই দেখেছিলেন । তবে কলম্বাসের ভ্রমণ কাহিনিতেও নদীর ওপারে যে দেশ, তার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না । পাওয়া গেলে ভালো হতো । একটা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেত । যুগ যুগ ধরে মানুষ যা বিশ্বাস করে আসছে তা তো আর মিথ্যা হতে পারে না । তবু মানুষ প্রমাণ চায় । অজানা সেই দেশ সম্পর্কে জানতে চায় । জানতে চাইলেই তো আর সবকিছু জানা যায় না । কেউ তো সেখান থেকে ফিরে এসে গল্প বলে যাবে না ।

ভুবনডাঙার পরাণ মাঝি সেই জানানোর দায়িত্ব নিয়ে নিলেন । তিনি ভাবুক কিসিমের মানুষ । পদ রচনা করেন । মানুষ তাঁর কিছু বোঝে, কিছু বোঝে না । তবে তাঁর পদ শুনে সবাই আনন্দ পায় । পরাণ মাঝি ঠিক করলেন, তিনি ওপার থেকে ফিরে আসবেন না কিন্তু লিখিতভাবে সবকিছু জানাবেন । তাঁর জন্য একটা কাঠের বাক্স বানানো হলো । গাবের কষ দিয়ে পানেট করা হলো । আলকাতরা লাগানো হলো যেন সেই বাক্সে জল না ঢোকে । সঙ্গে খাতা-কলম নেওয়া হলো । ওপারে পৌঁছানোর পরে সবকিছু বিস্তারিত লিখে বাক্সে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন ।
নৌকা ভাসানোর কিছুদিন আগে পরাণ মাঝি একটি ভোজ সভার আয়োজন করলেন । সেখানে সেই বাক্সটি সবাইকে দেখানো হলো । বাক্সের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো । এই বাক্স যখন ফিরে আসবে তখন তার ভেতরে ওপারের সবকিছু বর্ণনা করা থাকবে ।
ভুবনডাঙার মানুষ একদিন ঢাক-ঢোল বাদ্য-বাজনা সহযোগে পরাণ মাঝিকে বিদায় জানাল এবং অপেক্ষায় থাকল বাক্সটি কবে ফেরত আসবে । অনেক দিন ধরে সবার চোখ খুঁজে ফিরল সেই বাক্স । মাস গেল, বছর গেল । একদিন ভুবনডাঙার মানুষ ভুলে গেল পরাণ মাঝির বাক্সের কথা ।

সেই বাক্স আজ এতকাল পরে ভুবনডাঙার ঘাটে এসে হাজির । ছোটরা না চিনলেও বড়রা সবাই নিশ্চিত যে, এই বাক্সই পরাণ মাঝির সেই বাক্স । পরাণ মাঝির নাম পর্যন্ত খোদাই করে বাক্সের ওপরে লেখা আছে । পিতা-জীবন মাঝি । সাং-ভুবনডাঙা ।

ভুবনডাঙার রাজা বাহাদুর পর্যন্ত এসে হাজির হলেন ঘাটে । সঙ্গে তাঁর পাইক পেয়াদা, সভাসদরা । রাজা বাহাদুরের নির্দেশে বাক্সটি তুলে আনা হলো নদীর ঘাট থেকে । সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে । টান টান উত্তেজনা । সবাই জানতে চায় কী লেখা আছে সেই  বাক্সের মাঝে ! যারা পড়তে পারে তারা নিজে পড়ে দেখতে চায় । যারা পড়তে পারে না তারা শুনতে চায় । প্রাণ ভরে শুনতে চায় সেই অজানা জগতের বিবরণ । শেষ পর্যন্ত রাজা বাহাদুর নিজ হাতে বাক্সটি খুললেন । ভেতর থেকে একটি খাতা বের করলেন । সবাই নিশ্চিত হলো একটি খাতা ফেরত এসেছে । রাজা একে একে সব পাতা ওল্টালেন । তারপর একটি পাতায় এসে থামলেন । মানুষের উত্তেজনা তখন চরমে । সবাই বাকরুদ্ধ, দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে রাজার দিকে । রাজা পড়ছেন মনে মনে । তাঁকে খুব চিন্তিত মনে হলো । তিনি মাইকের সামনে থেকে সরে গিয়ে সভাসদদের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলেন । জনগণের ভেতর থেকে তখন একটি মৃদু গুঞ্জন উঠল । তবে কি সব মিথ্যা ? এত দিন যা কিছু শুনে এসেছে সব মিথ্যা ! এমন সময় রাজা উঠে এলেন মাইকের সামনে । তিনি ধীরে গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন—পরাণ মাঝি নতুন কিছু লিখে পাঠায়নি । আপনারা এত দিন ধরে যে কথা শুনে এসেছেন সেটাই সত্য । যাদের মনে দ্বিধা, দ্বন্দ্ব বা কোনো রকমের সংশয় তৈরি হয়েছিল তাদের সবকিছু ভুলে আবার নৌকা তৈরিতে মন দিতে হবে । আমাদের সবাইকে একদিন নদীর ওপারে গিয়ে পৌঁছাতে হবে ।
তবে সবাই শুনতে চায় পরাণ মাঝি আসলে কী লিখেছে । শেষ পর্যন্ত রাজা পড়লেন পরাণ মাঝির লেখা ছোট্ট একটি পদ—

‘সাপের পাঁচ পা, ঘোড়ার ডিম,
আশার বাতিঘর জ্বলে টিম টিম ।
অকাল কুষ্মাণ্ড দেখে অমাবস্যার চাঁদ
ভুবন জুড়িয়া পাতা নানা রঙের ফাঁদ ।’

এই পদ শুনে কেউ কিছু বুঝল না কিন্তু আগ্রহটা চরমে পৌঁছাল । সবাই আরও শুনতে চায় । বিস্তারিত বিবরণ শুনতে চায় । রাজা আরও দুই বার পদটি পড়ে শোনালেন । তারপর বললেন, আমিও আপনাদের মতো বিস্তারিত কিছু আশা করেছিলাম । কিন্তু পরাণ এটুকুই লিখেছে । তবে এই অল্প কথার ভেতরেই সে সব কথা বলে দিয়েছে । আমাদের বুঝে নিতে হবে । তারপর তিনি তাঁর সভার একজন পণ্ডিতকে ইঙ্গিত করে বললেন, তিনি আপনাদের সবকিছু বুঝিয়ে বলবেন ।

পণ্ডিত উঠে এসে বললেন, আমাদের মহামান্য রাজা বাহাদুর অতি সুন্দরভাবে আপনাদের বুঝিয়ে বলেছেন । তাঁর অতিরিক্ত কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই । তবে পরাণ অতি ক্ষুদ্র পরিসরে যা লিখেছে তা বিন্দুর মাঝে সিন্ধু দর্শন ।

এতক্ষণ যারা রাজা ও পণ্ডিতের কথা বোঝার জন্য হা করে অপেক্ষা করছিল তাদের হা আরও একটু বড় হলো । তবে কিছুই বুঝতে পারল না ।

পণ্ডিত বললেন, সাপের পাঁচ পা আর ঘোড়ার ডিম আমাদের ভুবনডাঙায় অসম্ভব । এই ধরনের সব অসম্ভব ঘটনাই ওপারে আছে । পরাণ সেসব দেখেই এ কথা লিখেছে । তারপর লিখেছে বাতিঘরের কথা । নৌকানিয়ে নদী পাড়ি দেওয়ার সময় সেই টিম টিম বাতি দেখে এগিয়ে যেতে হবে । আমরা যেন কেউ ভুল পথে না চলি । ভুল পথে গেলে ভুল দেশে পৌঁছে যাব । তারপর পরাণ আরও লিখেছে, অকালকুষ্মাণ্ডের মতো একজন অপদার্থ, নগণ্য ব্যক্তিও আঁধার রাতে চাঁদের আলো দেখতে পারবে । অর্থাৎ সেখানে ছোট-বড় কোনো ভেদাভেদ নেই । সবাই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে । পরাণের লেখার শেষ লাইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই ভুবনডাঙায় আমরা নানা রকম লোভ-লালসা আর মায়ার জালে আবদ্ধ হয়ে থাকি । নানা কাজে ব্যস্ত থাকি । নৌকা তৈরিতে গাফিলতি করি । আমাদের এই সব লোভ-লালসার জাল ছিন্ন করে ওপারের বাতিঘরের টিম টিম আলোর দিকে এগিয়ে যেতে হবে । আজ থেকে সেটাই হবে আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ।

পণ্ডিতের কথা শুনে অনেকেই তাদের কৃতকর্মের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল । নানা রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে যাদের নৌকা তৈরির কাজ পিছিয়ে পড়েছে, তারা কেউ কেউ মনের দুঃখে কেঁদে ফেলল । কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল । এই মুচকি হাসির মানুষদের কেউ কেউ কিছুটা শিক্ষিত । তারা বুঝেছে, পরাণ মাঝি যা লিখে পাঠিয়েছে তার অর্থ, ওপারের যে গল্প এত দিন শুনে এসেছে তা মিথ্যা । তা অসম্ভব আর অবান্তর । ভুবনডাঙার মানুষেরা কল্পকথার মিথ্যা গল্পের ফাঁদে আটকে আছে । সত্যি কথা সরাসরি লিখলে রাজা বাহাদুর তা মানবে না । তাই পরাণ মাঝি একটু কায়দা করে লিখেছে । এই অবিশ্বাসী মানুষদের কেউ কেউ মনে করে, বাক্সের ঘটনাটাই রাজা বাহাদুরের সাজানো নাটক । তা না হলে, এই স্রোতের নদীতে ওপার থেকে বাক্স ভাসিয়ে দিলে এপারের ভুবনডাঙার ঘাটে উঠবে কেন ? কয়েক ক্রোশ আগে পিছেও তো যেতে পারত । স্রোতের নিয়ম অনুযায়ী তেমনটাই তো হওয়ার কথা । তারা মনে করে, রাজা চায় মানুষ সব সময় ওপারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকুক । যাতে রাজা বাহাদুরের কাজের কোনো প্রতিবাদ বা সমালোচনা কেউ না করে ।

ভুবনডাঙার মানুষেরা পরাণ মাঝির পদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ব্যস্ত থাকল । কেউ পক্ষে বলে, কেউ বিপক্ষে । একই কথার দুই রকমের অর্থ পাওয়া গেল । যার যার বিশ্বাসে সবাই অটল থাকল । পরাণ মাঝির বার্তা কারও মনেই তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারল না । বরং দুই পক্ষের বিশ্বাসের ভিতই কিছুটা শক্ত হলো । এক বাউল নতুন গান বাধলেন—

‘ওই পারেতে যাব বলে মনে ছিল আশা
মাঝ দরিয়ায় নাও ডুবিয়া হইলাম সর্বনাশা ।
সারা জীবন নাও না বাইন্ধা মনরে আগে বান্ধ
ওপারেতে সুখের আশায় এপারে কেন কান্দ ।
এপারেতে নগদ যা পাও তাই নিয়ে সব বাঁচ
কল্পকথার গল্প ভুলে দুহাত তুলে নাচো ।
ধন্য আশা কুহকিনী ওরে অবুঝ চাষা
মাঝ দরিয়ায় নাও ডুবিয়া হইলাম সর্বনাশা ।’

বাউল তাঁর এই গান গ্রামে গ্রামে গেয়ে বেড়ান । গানের সুরে মুগ্ধ হয়ে গ্রামের লোকেরা তা তাদের নিজেদের গলায় তুলে নেয় । এভাবে গানের খবর পৌঁছে যায় রাজা বাহাদুরে কানে । বাউলকে ডেকে পাঠান রাজা । তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে আদর আপ্যায়ন করে । রাজার দরবারে চাকরি দিতে চায় । বাউলের ভবঘুরে জীবন । তিনি রাজার খাঁচায় বন্দী হতে চান না । স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ান । নদীতে তাঁর নৌকা ভাসানোর কোনো পরিকল্পনা নেই । তবে একদিন বাউল নিজেই নৌকার মতো ভেসে উঠল ভুবনডাঙার ঘাটে । কেন হলো, কীভাবে হলো, কেউ কিছু জানে না । ভুবনডাঙার মানুষেরা কিছুদিন হাহাকার করল বাউলের জন্য । তারপর সবাই তাঁর কথা ভুলে গেল । তবে বাউলের গান থেকে গেল মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে । ভুবনডাঙার বিশ্বাসী মানুষেরা এখনো নদীতে মাছ ধরে, খেতে ফসল ফলায় । রাতে মশাল জ্বালিয়ে বাউলের গান গাইতে গাইতে নৌকা তৈরি করে ।

Comments:

0 মন্তব্য
প্রদর্শন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন