কবিতা
কবিতাঃ সুজিত রেজ
দীপ্যমান
এতদিনে অবশ্যই তুমি সেখানে পৌঁছে গেছো? নিশ্চয় একটা বাসযোগ্য আস্তানা খুঁজে পেয়েছ ?
একটি নদী---তিনডুব---
আর কবিতার হাওয়ায় ভেসে যাওয়া সেই জানালানৌকা---
যারা অমলিন জ্যোৎস্নার দিকে ভেসে যায়, ফেরে না আর ।
ভালোবাসার পাখিগুলি ডেকে ওঠে
একতারা-ভোরে ।
রাতজাগা দুই চোখ চন্দ্রভুক নিশুতির মতো
অন্যমনস্ক হয়ে যায় তোমার।
তখনও তুমি লিখে চলেছ শীত-গ্রীষ্মের চিঠি ।
সনাতন দূরত্ব-সম্পর্কিত কথা :
দূরত্ব বিপ্রলম্ভের গৌরগৌরব যমজ বেদনা ।
দূরত্ব থাকুক তোমার সঙ্গে আমার
এই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ।
শূন্যের মৃত্যু হয় পূর্ণের জন্যই ।
আমার পিসি
আমার পিসির ন'বছর বয়সে বিয়ে হয়।
এগারো বছর বয়সে শ্বশুরবাড়ি যাবার আগেই বৈধব্যলাভ ।
তেরো বছর বয়সে সহৃদয় এক ব্যক্তি
কুমারিত্ব অটুট জেনে,
শাদা কোঁড়া শাড়ি খুলে লাল বেনারসি পরিয়ে দেন ।
পনের বছর বয়সে সীমাদি ও রিমাদির জন্ম হয় ।
দুই মেয়ে ও তাদের মাকে আমাদের বাড়িতে রেখে দিয়ে,
সেই সহৃদয়
নতুন একটা বেনারসি কিনে বাড়ি ফিরে যান ।
জ্ঞান হবার পর থেকেই বুঝেছি-জেনেছি- দেখেছি,
পিসিই আমাদের সংসারের মুখ্যমন্ত্রী ।
রাতদিন সাতদিন শুধু কাজ---কাজ আর কাজ ।
পিসিমা ভোর তিনটেয় উঠে মুড়ি ভাজতেন ।
ভাজতে---ভাজতে--- কাঠ-ঘুঁটে-তুঁষ-প্যাকাটির ধোঁয়ায়
দু'চোখের কোণে পাহাড়ি বৃষ্টি নেমে
যমুনার সঙ্গে মিশে যেত ।
আমাদের একান্নবর্তী পরিবার ।
সীমাদি-রিমাদি কখন যে বড়ো হয়ে গেল
কাকপক্ষীও টের পেল না।
কিন্তু নারদের চোখ এড়ায় কে !
তিনিই সুপাত্র জুটিয়ে দিলেন ।
যমজ ভাইদের সঙ্গে যমজ বোনেদের বিয়ে হয়ে গেল।
সীমা জামাইবাবু মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার ।
ধানবাদে ধান নয়, কয়লা কুড়িয়ে দিন গুজরান ।
একদিন ওদের গুলি খাওয়ার খবর এল ।
যমের সঙ্গে ফাইল চালাচালি হল আটচল্লিশ ঘণ্টা !
রিমা জামাইবাবু ভাবার সায়েনটিস্ট।
গোয়ার সমুদ্র তাদের দু'জনকেই একসঙ্গে
কোলে তুলে নিল ।
আজও পিসিমা ভোর তিনটেয় উঠে মুড়ি ভাজেন।কাপড় কাচেন।বাসন মাজেন।ধান সিদ্ধ
করেন।
ঢেঁকি কোটা চাল শরীর নাকি ভালো সয় ।
সূর্যের আলো ফুটলে দেখি চোখ দুটো যেন
থরের মরীচিকা ।
পরের বছর পিসিমার শতবর্ষ ।
আমরা পালন করব প্রমীলাদিবস ।
ও হরি, বলাই তো হয়নি,
আমার পিসির নাম প্রমীলা ।

0 মন্তব্য
প্রদর্শন
আড়াল