কবিতা
নশ্বর
সুদীপ দাস
১
শোবার আগে দুফোঁটা কৃত্রিম চোখের জল দিই
জলশূন্য দুচোখে
শ্রবণসীমার বাইরে যা ছুটে বেড়ায়
তাকে গাল ফুলিয়ে হাওয়া করে ভরে রাখি মুখে
দৃশ্যসীমার বাইরে যা উড়ে বেড়ায়
তাকে চোখের পাতায় জল করে ধরে রাখি
ভিতরে সেই জিরেন না পাওয়া খেজুর গাছের উশখুশ
ঘুমের মধ্যে সারাদিনের হল্লা, তিরিক্ষি প্রান্তর, রোগাটে বৃক্ষ
ঘুম ভাঙলেই চোখের জল টপটপ করে ঝরে যায়
গালের জমানো হাওয়া উবে যায় ভুস করে
বিছানায় ভূতের মতো উঠে বসি
হাতে আইড্রপের শিশি
২
টেবিল থেকে প্রথমে উঠিয়ে নিয়ে গেছে প্রিন্টার
তারপর একে একে মাউস, কিবোর্ড, মনিটর
সিপিইউটা কোনোক্রমে বেঁচে গেছে
তার ভিতরে সাজানো উৎসব, ভালোবাসা, দূরত্ব, বিষাদ, লাশ
একে একে প্রশ্ন করছে
কেন এরকম হয় ?
ওই সব কিছু থেকে নিরুত্তর বেরিয়ে আসি
আর খুঁজি একটা নিরক্ষর স্বাবলম্বী উদ্ভিদের বন্ধুতা
সিপিইউটাও শেষমেষ নিয়ে গেল
এবার শুধু একটা শূন্য টেবিল
কী করে পুনরায় সক্ষম হয়ে উঠবে জানি না
ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে মেঘ নাড়াতে শিখছি
ভাষার সঙ্গে ভাব করতে পারছি এমন একটা সময়ে
যখন ব্যাগপাইপ যন্ত্রটার আয়ু প্রায় ফুরিয়ে এসেছে

0 মন্তব্য
প্রদর্শন
আড়াল