কবিতা
প্রান্তকথা
নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়
তাদের লেখায় হয় না বলে হেয়
সহজ লেখা আমার বলেও তাই
বোদ্ধাশ্রেণি রাখে হরেক খাঁই
তারাই নিয়ম, যদিও পরিমেয়
এরই মাঝে রেওয়াজ নিয়মিত
মাধ্যমে ঘোর নাচন পুচ্ছশিখা
কপাল বাছে সত্য মিথ্যা টিকা
খানিক পুলক খানিক থতমত
স্বভাব বশে শূন্যে বসতকারী
নভশ্চরের সাদৃশ্য সংযোগ
পরিণামের সর্বশেষ আমোদ
শূন্যায়নের পুণ্যে পকেট ভারী
যাদের সঙ্গ অদৃশ্যতেও স্পষ্ট
যেসব লক্ষ্য ছিল ষাঁড়ের চোখ
দূরত্বে লীন সে সব আয়োজক
এখন বাছাই অক্ষত আর দষ্ট
শপথ থাক মাটি বাতাস বীজে
দ্বিধাভীরুর কাম্য কশেরুকায়
আবার যারা, তারা যেন ফোটায়
করবো আশা যা পারিনি ভিজে
তেমন কোনো ফলেনি ফসল
গাওয়ার মতো অন্ধকারও নয়
গড়তে মজুত অনেকটা সঞ্চয়
গাফিলতির বিভ্রমে নিষ্ফল
কলম তুলি বিকিয়ে যাচ্ছে গান
জোয়াল এবং খোশামুদি মশক
দেখে যাওয়া সংক্রমণের দশক
হারিয়ে ফেলা বুক ঠোকা নির্মাণ
রাজারানির বেড়েছে দৌড়াত্ম
প্রতিশ্রতির কাপট্যে বেইমানি
অবাধ লুটের বখেরা কাটমানি
ঢাকতে ছবির নিদানে একাত্ম
ক্রমশ গ্রাস হচ্ছে দেশের ধারা
বাঁধলে যেমন বিপজ্জনক বাঁধ
তেম্নি শাসক মৌলবাদের সাধ
ঠুসছে কষে, উঁচু ত্রাসের পারা
দেশে দশে চাগিয়ে তোলা ভেদ
মৌল ভাঙতে মৌলবাদের জন্ম
শাসক নিজেই ব্যাপক অপকর্ম
দেশের থেকে দেশ করে উচ্ছেদ
পৃথিবীটাই হানাদারের ডেরা
চিত্তে মকশো আক্রমণাত্মক
সম্মেলনের ধার্মিক সব বক
চুণ খসলেই যুদ্ধে আত্মহারা
প্রকৃতি ছোঁয় সহ্যসীমার প্রান্ত
ভাসছে জ্বলছে পুড়ছে চতুর্দিক
তবু সর্বপ্রকার ধর্ষণে নির্ভীক
গ্রহের মানুষ বুঝেও অক্লান্ত
কয়েকখানি দশক বইলো ভার
ভরসা রাখার ভরসা হারায় স্নায়ু
হেলাফেলার হতাশ পরমায়ু
জোটালো এই আয়ুর সারাৎসার
শেষের ঘন্টা পাগলাঘণ্টি করে
বাজিয়ে দিতে ইচ্ছে শেষের বেলা
ঝাঁপ দিয়ে তোরা এক্ষুনি সামলা
চেঁচিয়ে উঠে বলার ইচ্ছে জোরে
উঁচু গলায় বলতে গেলেই দেশে
মাতা হোক বা প্রাজ্ঞ পিতামহ
বুলেট এবং শিকলের আবহ
কায়েম হয়ে আছে নির্বিশেষে
তবুও উঠবে অগ্নি পুরুষ-নারী
আগুন দিয়ে শুধরে দেবে ঠাঁই
এবং যদিও শাসকবেশী কশাই
চিঁচিঁ কণ্ঠে একটুও যেন পারি
যতক্ষণ এই সুযোগ সক্ষমতা
ভিতর বাহির পেরনো চৌকাঠ
ছিনিয়ে নিতে হবে নিজের মাঠ
বিষয় দেগে ভরতে হবে পাতা
অস্ত্র বলতে লিটিল ম্যাগাজিন
এছাড়া আর ট্রেঞ্চ বলো মাচা
এই পরিসর যেটুকু দেয় বাঁচা
এখান থেকেই ঘোষণা স্বাধীন

0 মন্তব্য
প্রদর্শন
আড়াল