Published Date:10-10-2021
?v=1220556767

তেলের জন্যে অকাল বোধন অথবা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট

শুরু করেছিলাম বহু বছর আগেই , তারপর হাঁটতে হাঁটতে কখন যে পা টা পিছলে গেলো, জানতি পারলাম না । জানতি পারলাম কিভাবে সময় পাল্টে যায় । আকাশের সাথে একটা যুদ্ধ , আর একটা যুদ্ধ বাতাসের সাথে । বিষয়টা সময়ভিত্তিক । কেউ কারো সাথে নেই । চর্মরোগের মত ছোঁয়াচে না । বরং ছোঁয়াচে ভাবটা একদম অপরিকল্পিত , সীমাহীন অসীমের গল্পের মতো । পরিকল্পিত । তাই তো  পঞ্চম সুক্তে বলা হলো “ হে অশ্বিনীদ্বয়, তোমার গর্তে প্রবেশকারী ইঁদুরকে(আখু) বিনাশ কর । তাদের মস্তক ছিন্ন কর ও পার্শস্থ অস্থি চূর্ণ কর । সে ইঁদুর জেন আমাদের ব্রীহিযবাদি ভক্ষণ না কে । হে অশ্বিনীদ্বয়, তোমরা দুজন তাদের মুখ বন্ধ করে দাও এবং ভয় থেকে আমাদের ধান্য রক্ষা কর “। অদ্ভুত সব মিলিত সত্যের সাথে একাকার , সিঞ্চনে সিক্ত নক্ষত্রকল্পে সুখের বিনিয়োগ ।  কিছুটা এগোলেই পাশের বাড়ির বিমুক্ত আকারের বিষয়গুলো পরিস্কার হয় । কিন্তু তার পার্শ্ব-ক্রিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপনের কল্পনাতে ইঁদুরের কথা মনে পড়ে যায় । হত্যা ও হত্যার মধ্যেই জয় । পরাজয় নদীমাতৃক সভ্যতার পাশাপাশি দুয়ারে সরকার, অসময়ে চালের জোগান, জোগান শুধু জোগান, বন্টন নেই, বন্টন চাহিদা থেকে আসে, চাহিদার কে ধার ধারে । চাল-গমে চাহিদা খালাস । তারপর । তারপর মরুসভ্যতার জাতাকলে পিষে মারার অনেক ফন্দি, কিছু বলতি পারবনি, জোগান আছে । আছে আছেন ,ছবিতে জোগান, জন্মেদিনে জোগান । মরুভূমির মরিচিকার হাতে রাখো, তবেই না দেখতে পাবে ধর্মের আফিম বিক্রি হয় কতটা সহজ কিস্তিতে । বিক্রি হয় । কেনা বেচা হয় । বেচা কেনা । পারস্পারিক বোঝাপড়া হয় । নেশা হয় । নেশায় তাড়িত হয় । আফিমের নেশার সাথে ক্ষমতার নেশা । নেশা তার বির্বণরূপের ধারক হয় । ধারক ও ক্ষাদকের মতো বিরোধীপক্ষ । বিরোধের আভাস । বিরোধ হয় । মাটি কাটা হয় । রাস্তা জুরে পাতা হয় রাষ্ট্রীয় শাবল । কন্ঠ রোধ হয় । কন্ঠের আগুন হত্যার ইস্তেহার লেখে রাষ্ট্রীয় দালাল । উনি ঈশ্বর । উনি ইন্দ্র । আমরা হনুমান । তাই  প্রতিবাদ প্রতিরোধের গলার উপর বুল্ডজার চালিয়ে দেয় রাষ্ট্রের অশ্বিনীদ্বয় । ইঁদুরের গল্প লেখা হয় রক্তের চাদরে । 

 

যদিও গল্পের মাথার মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিয়েই , সমস্যার চ্যানেল প্রতিদিন পরিবর্তনের হাত ধরে পাল্টে যায় । প্রতিদিন নতুন গল্প । সব কিছুই হইবেক, এমনটা হইবেক । তেমনটা হইবেক । কিছু হবার যে না , সেটা প্রতিদিন আমাদের গল্পের খাতা ওল্টালে খুব বেশি ভাবনার বিষয় থাকে না । কারণ বিষয় তো পরিবর্তন হইতে থাকে । সমস্যা পরিবর্তন । ঘটনা পরিবর্তন । তারপর তুমি হাত তুলিয়া নাচিবে না, না পা তুলিয়া কাঁদিবে । সে রকম কোন বিশ্বাসের বা বোধের জন্ম কিছুতেই আপনার মাথা ঢুকাইতে দিবে না । ঢুকিলেই চিন্তা আইবো । চিন্তার লগে ভাবনার বিচরণ হইবো । আর ভাবনার বিচরণ হইলেই তো, তখন আপনি তেলের জন্যে প্রশ্ন করিবেন । প্রশ্ন করিলেই পাকিস্তান । রান্নার করিতে তেলের প্রয়োজন আজ কাল পরশুর গল্পের জন্যে ভুলিতে হইবে । 

 

গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে যখন অযৌন চামচিকের দল বার বার বদল করিতে পারে অসাংবিধানিক জার্সি, তখন সরকার দুয়ার থেকে লুটের মাল নিয়ে অযান্ত্রিক কাঠামোর মাঝে গান গায়বে । কতকটা সুন্দর বা সুন্দরের মতো কতকটা মালতি ফুল । কতকটা জুঁই । কিছুটা টগর । তারপর আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে । কালে ভাদ্রে যদিও কিছু খবর আসে, সে খবরের বোঝা এতটাই ভারি ও নগ্ন । না তোলা যায় - না তাকিয়ে থাকা যায় । পচা দুর্গন্ধে ভরাট নগ্নতা , বার বার আমাদের অন্ধকারকে পিষে মারে । কি জানি আরো কত হাজার বছর পার হবার পর দুর্গন্ধে ভরা নগ্নতাকে পার করে যেতে পারা যাবে কিছুটা মুক্তির গন্ধে ।

সবটাই পরিকল্পিত । পরিকল্পিত ঘৃণা । পরিকল্পিত মাদারী খেলা । পরিকল্পিত জন্মের গান । পরিকল্পিত  অন্ধকার । পরিকল্পিত আইন । পরিকল্পিত জনগণের সাথে পাড়া বেড়ানো । পরিকল্পিত একটা উঠোনের মধ্যে আরো একবার উদোম নাচের আসর । তারপর চুপি চুপি বলে ফেলা- দারুণ ‘অকাল বোধন আসলে রাজনৈ্তিক   ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ।

Comments:

0 মন্তব্য
প্রদর্শন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন